সাসপেন্স
বই রিভিউ
বই রিভিউ
নাম: সাসপেন্স (প্রথম বর্ষ। প্রথম সংখ্যা। মে ২০২৬)
সম্পাদক: সিদ্দিক আহমেদ
সহ-সম্পাদক: তানিম রহমান পাপন
প্রচ্ছদ: আরাফাত করিম
লোগো ডিজাইন: আরাফাত করিম
গ্রাফিকস: সজল চৌধুরী
সার্কুলেশন: গ্রন্থরাজ্য টিম
জনরা: থ্রিলার, হরর, সাসপেন্স, একশন
দুই বাংলার সবচেয়ে বড় থ্রিলার ম্যাগাজিন ‘সাসপেন্স’এর প্রথম সংখ্যা ফিচার করেছে স্টিফেন কিং-কে। আধুনিক হরর সাহিত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখকের প্রতি প্রথম সংখ্যায় নড দেয়াটা আমার মতে স্ট্র্যাটেজিক্যালি এক দারুণ কাজ হয়েছে।
যে ম্যাগাজিনের নাম ‘সাসপেন্স’ তার প্রথম পর্বেই স্টিফেন কিং-এর বিভিন্ন গল্পের অনুবাদ, তাকে নিয়ে ফিচার, থ্রিলার গল্প, ধারাবাহিক হরর উপন্যাস, কমিক্সের সংমিশ্রণ সেই সংখ্যাকে করেছে যথোপযুক্ত। আমি পুরো ম্যাগাজিনে একটি খারাপ লেখা পাই নি।
১) গ্রেভইয়ার্ড শিফট: মুল- স্টিফেন কিং। অনুবাদ- আহনাফ তাহমিদ
গেটস ফলের মিলে কর্মরত ‘কলেজ বয়’ হল যখন একদল কর্মী নিয়ে বিভিন্ন ফ্লোর পরিষ্কার করার কাজে নেমে পড়েন তখন-ই তাদের জীবনে নেমে আসে একের পর এক মৃত্যুসম অস্বস্তির ছোঁয়া। কিং তো অস্বস্তি, গা গুলোনো অনুভুতি সৃষ্টির ওস্তাদ এমনিতেই, সাথে অনুবাদ হয়েছে সুন্দর।
২) স্টিফেন কিং: মৃত্যু, স্বপ্ন, সংকল্প- ওয়াসি আহমেদ
স্টিফেন কিং-এর লেখনি, চরিত্রনির্মাণকৌশল, বিভিন্ন উপন্যাসের সাথে এ ফিচারে আগ্রহী পাঠকের পরিচয় করিয়েছেন ওয়াসি।
৩) ডিব্বা: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
আত্মহত্যা নাকি হত্যা? চিরাচরিত এই প্রশ্নের সুলুক সন্ধানে বেরুনো ওল্ড স্কুল তদন্তকারী বাহাদুর বেপারি নতুন প্রযুক্তির বিড়ম্বনা ও বিস্ময়ের সাথে পাঠককেও নিয়ে যাবেন। মজার গল্প।
৪) সাক্ষাৎকার: নির্মাতা তানিম নূর
ঘরে ঘরে সুপরিচিত নির্মাতা তানিমের সাথে ‘সাসপেন্স’ টিম কথা বলেছেন তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র এবং থ্রিলারের মুভি অ্যাডাপ্টেশনের সম্ভাবনা ও নানা দিক নিয়ে।
৫) একটুখানি রাতে রাগিনী: তানজীম রহমান
আমার প্রিয় লেখক তানজীম ফিরেছেন তাঁর ধর্ম, মিথ, দর্শন ও আর্বান লিজেন্ডের সংমিশ্রণের হরর জগৎ নিয়ে। দারুণ এক ক্লিফহ্যাঙ্গারে আপাতত ইতি টানলেন লেখক ধারাবাহিক এই উপন্যাসের।
৬) নাইট শিফট: শরীফুল হাসান
রাতে ডিউটি করার সময় কুদ্দুসকে আজমল ঘরের বাইরে যেতে মানা করেছে। শেষ পর্যন্ত নতুন নাইটগার্ড কি কথা শুনবে? ভয়ের এই গল্প ভালো লেগেছে।
৭) আই অ্যাম দ্য ডোরওয়ে: মুল- স্টিফেন কিং। অনুবাদ- কুদরতে জাহান
মহাকাশ থেকে ফিরে আসা এক নভোচারীর ভয়ংকর কিছুর মাধ্যম হয়ে ওঠার গল্প এটি। কিং যথারীতি চরিত্রগুলোকে পরিচিত করে পরবর্তিতে নিয়ে এসেছেন ভয়াল এক শেষ। অনুবাদ ভালো।
৮) বিচ্ছু ছোটন: আঁকা: দ্য সেকেন্ড স্টুডিও। লেখা: সিদ্দিক আহমেদ
১৯৭১ সালে সব হারানো দৃঢ়চেতা এক কিশোরের ক্রমাগত মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার এ ধারাবাহিক কমিক্সের অঙ্কন ও গল্প আগ্রহোদ্দীপক।
৯) ১৪০৮: মূল- স্টিফেন কিং। অনুবাদ- শাহেদ জামান
এই সংখ্যার সবচেয়ে দুর্দান্ত লেখা আমার কাছে এটি। হোটেলের অদ্ভুত রুমে কারো ভৌতিক অভিজ্ঞতার গল্প তো কমবেশি আমাদের প্রায় সবার পড়া তবে স্টিফেন কিং ১৪০৮ নাম্বার রুমে লেখক মাইক এনস্লিনের গল্পকথনে যেরূপ জ্যামিতিক কল্পনাশক্তি ব্যবহার করেছেন আর তীব্র ভয় সৃষ্টি করেছেন তা এক কথায় অসাধারণ। অনুবাদও হয়েছে যথাযথ।
১০) যে জীবন ফড়িংয়ের - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
ছোট্ট এক গল্প তবে সুন্দর। পুনর্জন্মের থিম ব্যবহার করে এরকম গল্প লেখায় বাপ্পী মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।
১১) সাতাশ বছর পর একদিন: শাহরিয়ার জাওয়াদ
বিষাদগ্রস্ত লেখক সুলতানের জীবন কি মিলুদার জীবনের-ই প্রতিচ্ছবি? অতিপ্রাকৃতিক এই গল্পে ধূসর কবির এক ধরনের আবির্ভাব ভালো লেগেছে।
১২) কুইটারস, ইনক: মূল- স্টিফেন কিং। অনুবাদ- আশিকুর রহমান
প্রিয় পাঠক, সিগারেট ছাড়তে চান? গল্পের মরিসনও চায়। কোন সুক্ষণে অথবা কুক্ষণে বন্ধু জিমির সাথে দেখা হয়ে গেলে মরিসন কুইটারস, ইনকের ঠিকানা পেয়ে যান। পরবর্তিতে কিং-এর লেখনি ধরে আপনি চলে যাবেন এক উইয়ার্ড ফিকশনের জগতে। ভয়াল সে জগৎ।
১৩) স্টিফেন কিং: ভয়ের মোড়কে মানুষের গল্প। অয়ন ইসলাম
স্টিফেন কিং মানেই ভয়ের গল্প নয় এবং একইসাথে কিং-এর কোন কোন বই দিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন তার দিকনির্দেশনা আছে সংক্ষিপ্ত এই ফিচারে। আছে বিশ্লেষণ। গুরুত্বপূর্ণ লেখা।
১৪) লাল চাঁদের রাতে: বাপ্পী খান
ভয়ংকর অপরাধী হারুন ঘটনাচক্রে গিয়ে পড়েছে রাঙামাটির বনে। বিশেষ এক রাতে, বিশেষ মহাবিপদ যেন ওৎ পেতে আছে হারুনের জন্য সেখানে। পাহাড়ী হররের সাথে পাঠকের দেখা হবে এই গল্পে। বাপ্পী খান চমৎকার লিখেছেন।
১৫) জিন: উৎস, উৎপত্তি এবং ক্রমবিকাশ। সিদ্দিক আহমেদ
আমাদের গতানুগতিক জিনসংক্রান্ত ধারণার বাইরে বিভিন্ন ধর্ম এবং মিথলজির সাথে জিনের সংযোগ তথ্যবহুল ও সহজ আলোচনা করেছেন এই ম্যাগাজিনের সম্পাদক সিদ্দিক আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ।
১৬) ইতি প্রিয়ভাষিণী: নাবিল মুহতাসিম
নাবিলের কোন লেখা পড়া হলো অনেক দিন পর। এআই কি ঈর্ষান্বিত হতে পারে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বভূক ঈর্ষার পরিণতিতে রিয়াদের সাথে কী ঘটতে যাচ্ছে। এক বসায় পাঠককে আগ্রহের সাথে বসিয়ে গল্পটি পড়িয়ে নিবেন লেখক।
১৭) স্টিফেন কিং এবং স্ট্রেঞ্জার থিংস: কুদরতে জাহান
এই ফিচারটি মূলত কিং-এর নিয়মিত পাঠকদের জন্য। গল্প-উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের মধ্যকার অদ্ভুত সংযোগের বর্ণনা আছে এখানে। ভালো লেখা।
১৮) ডাস্টবিন: নসিব পঞ্চম জিহাদী
পাঁড় বাটপার মোকাদ্দেম উদ্দিন ওরফে এনামুল কবির রুদ্রের এক বিশাল দাঁও মারার গল্পে এনট্রি ঘটে হরর উপাদানের। শেষের সাবটেক্সট একদম কঠিন।
১৯) আমায় দেখতে যেও দারুল ফুলের বনে: মাশুদুল হক
ভবিষ্যতের উদ্দেশে পাঠানো স্ত্রীর কিছু ই-মেইলে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ ও তিক্ত সত্যের মুখোমুখি যখন স্বামী হয়ে পড়েন তার কাহিনী এটি। বেশ কিছুটা বিষণ্নতার গল্পও।
২০) সার্ভাইভার টাইপ: মুল-স্টিফেন কিং। অনুবাদ-বর্ষণ হাসান
বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত সার্জন রিচার্ড পাইনের এক দ্বীপে সম্পুর্ণ একা আঁটকে পড়া এবং তাঁর সারাজীবন ধরে যেকোন মূল্যে সার্ভাইভ করার বাসনা তাকে দিয়ে যা যা করায় তা দিয়ে স্টিফেন কিং আমাদের বারবার দেখিয়ে দেন প্রকৃত হরর আসলে বাইরে নয় আছে আমাদের ভিতর-ই। দারুণ এক গল্প, দারুণ অনুবাদ।
২১) হারানো বিকেলের সিন্দুকে: এনামুল রেজা
বাংলাদেশের সফল তরুণ ঔপন্যাসিক এনামুল রেজা তাঁর রিডার ও নভেলিস্ট লেন্সে স্টিফেন কিং-কে নিয়ে সুন্দর এক আলোচনা করেছেন এই ফিচারে।
২২) নিশি বিল: আঁকা ও লেখা- রাজীব
বিলে ডুবে যাওয়া এক কিশোরের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে কমিক্সটি রচিত। বিলের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন, গুমোট রঙ কমিক্সে ফুটে ওঠায় ভালো লেগেছে। তবে এটি ধারাবাহিক কি না ঠিক নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
স্টিফেন কিং-এর উপর আগ্রহীরা এই সংখ্যা পড়ে তাঁর উপর থাকা অনেক প্রশ্নের উত্তর হয়তো পেয়ে যাবেন। পাঠকমনে তৈরি হবে নতুন ইনসাইট।
‘সাসপেন্স’এর প্রতি অনেক অনেক শুভেচ্ছা।


